Wednesday, February 27, 2013

Statue of Liberty

-->

Statue of liberty

স্ট্যাচু অফ লিবার্টি!!!(স্থাপত্যকলা)

-->উনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যসমূহের মধ্যে অন্যতম। এর মূল স্থপতি ফরাসি ভাস্কর ফ্রেডরিক বারথল্ডীএটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি ফ্রান্সের জনগণের উপহার। ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বাধীন হিসেবে আত্মস্বীকৃতি প্রদান করে। স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে ১৮৮৬ সালের ২৮ই অক্টোবর ফ্রান্স  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই বৃহৎ মূর্তিটি উপহার দেয়। ১৯২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটিকে জাতীয় স্মৃতি স্থাপত্য ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেয়। এই পর্যটন কেন্দ্রটি ‘নিউ ইয়র্ক বে(উপসাগর)’ তে অবস্থিত ছোট দুটি দ্বিপ ‘লিবার্টি আইল্যান্ড’ এবং ‘এলিস আইল্যান্ড’ নিয়ে গঠিত(প্রায় ২৪ হেক্টর বা ৫৮ একর জায়গা) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস এর দেখাশুনা করে থাকে। 


-->এককালে(১৮৯২ থেকে ১৯৫৪) ‘এলিস আইল্যান্ড’ যুক্তরাষ্ট্রের সদর দরজা(ইমিগ্রেশন পয়েন্ট) হিসেবে ব্যাবহৃত হত। অর্থাৎ, সকল বিদেশী পর্যটক, বনিক, রাষ্ট্রদূত এখান দিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতেন। এটিকে ১৯৬৫ সালে ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ন্যাশনাল মনুমেন্ট’ এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে ইমিগ্রেশন ভবনটিকে ‘এলিস আইল্যান্ড ইমিগ্রেশন মিউজিয়াম’ এ রুপান্তর করা হয়। এ জাদুঘরে তিনতলা এক্সিভিশন হল, একটি গবেষণা লাইব্রেরী ও ইমিগ্রেশনের উপর একটি হিস্ট্রি প্রোজেক্ট আছে।  


-->মূল স্থাপনাটি ‘লিবার্টি আইল্যান্ড’ এ অবস্থিত। স্থাপত্যটির আসল নাম হচ্ছে ‘লিবার্টি এনলাইটেনিং দি ওয়ার্ল্ড(Liberty Enlightening The World)


-->এটি একটি নারীমূর্তি যে কিনা তার পায়ে বাঁধা অত্যাচারের শিকল ভেঙে ফেলেছে। তাঁর ডান হাতে উঁচু করে রাখা জ্বলন্ত মশালটি স্বাধীনতার প্রতীক। তাঁর বাম হাতে ধরা প্রস্তর ফলকটিতে রোমান সংখ্যায় ‘জুলাই ৪, ১৭৭৬’ লেখা আছে। মূর্তিটি একটি ঢোলা আলখেল্লা পরিহিত এবং এর মাথার সাতটি ফলা সম্বলিত মুকুটটি সাতটি মহাসাগর ও সাতটি মহাদেশের প্রতীক

এটি উচ্চতায় প্রায় ৪৬ মিটার(১৫১ ফিট)। এর বেসমেন্টে অবস্থিত পিলারের উচ্চতা প্রায় ৪৭ মিটার(১৫৪ ফিট)। অর্থাৎ সী লেভেল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৯৩ মিটার(৩০৫ ফিট)। পা থেকে মাথা পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৩৩.৮ মিটার(১১১.৫ ফিট)। এর কোমর প্রায় ১০.৭ মিটার(৩৫ ফিট)। মূর্তিটির সর্বমোট ওজন প্রায় ২০৪১১৬.৫৮ কেজি(৪৫০০০০ পাউণ্ড)। একটি লৌহ কাঠামোতে প্রায় ২.৪ মিমি(০.০৯ ইঞ্চি) পুরু তামার আস্তরণ দিয়ে মূর্তিটি বানানো হয়েছিল।



--> লৌহ কাঠামোটির ডিজাইন করেছিলেন বিখ্যাত ফরাসি প্রকৌশলী আলেকজান্দ্রে গুস্তাভ আইফেল(ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের স্থপতি)।
-->এর বেসমেন্টে অবস্থিত পিলারটি কংক্রিট ও গ্রানাইটের মিশ্রণ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। এই পিলারের ডিজাইনার ছিলেন আমেরিকান স্থপতি রিচার্ড মরিস হান্ট।


-->বেসমেন্টের পিলারের চারপাশে তারকা আকৃতির কাঠের দেয়াল আছে। এটি ১৮১২ সালের যুদ্ধ থেকে নিউ ইয়র্ক কে রক্ষার জন্য উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে নির্মিত দুর্গের অংশবিশেষ।


-->মূর্তিটি তৈরির খরচ ফ্রান্সের জনগণ দিয়েছিল। এটি ফ্রান্সে নির্মিত হয় এবং প্যারিসে প্রথম প্রদর্শিত করা হয়েছিল। অতঃপর বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে জাহাজে করে নিউ ইয়র্ক নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমান স্থানে আবার পুনঃসংযোজন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেসমেন্টের পিলারটি তৈরি করেএই পিলার তৈরির অর্থ পত্রিকা প্রকাশক জোসেফ পুলিজার এর সংগৃহীত ফান্ড থেকে নেয়া হয়েছিল। 
-->
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রুভার ক্লিভল্যান্ড ১৮৮৬ সালের ২৮ই অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে উৎসর্গ করেন এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেন

 ১৯৮৪ সালে ইউনেস্কো এটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করে।